পটিয়ায় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের উপ-প্রকৌশলীর বেপরোয়া দুর্নীতি ।

 

পটিয়ায় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের উপ-প্রকৌশলীর বেপরোয়া দুর্নীতি ।

সেলিম চৌধুরী, 
স্টাফ রিপোর্টারঃ-

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ উপ প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপ সহকারী প্রকৌশলী রাজু মন্ডলের অনিয়ম দুর্নীতি, হয়রানির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে হাজার হাজার গ্রাহক। উপ প্রকৌশলী রাজু মন্ডল কথায় কথায় কোন অভিযোগ ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর হাতিয়ে নেয় কৌশলে দালালদের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা। টাকা না পেলে মোটা অংকের জরিমানা ও মামলার ভয় দেখিয়ে পরে গ্রাহকদের কাছে তার নিজস্ব লোক পাঠিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পুনরায় সংযোগ দেয়।

এছাড়া মিটারে লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকলেও টাকার বিনিময়ে বকেয়া বিল জিরো করে দেন রাজ মন্ডল। রাজু মন্ডলের অনিয়ম দুনীতির কারণে পটিয়া পিডিবি অফিসের অন্য কর্মকর্তা কর্মচারীরাও জিম্মি হয়ে পড়ছে। উক্ত অফিসের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীকেও মানে না বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, পটিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের উপ প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপ সহকারী প্রকৌশলী রাজু মন্ডল গত ২২ জুলাই পটিয়া সদরের ওখাড়া এলাকার রওশন সওদাগরের দোকানে লাইনে অনিয়ম থাকার অভিযোগে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। 

বিচ্ছিন্ন করার পর রাজু মন্ডাল ঐ গ্রাহকের কাছে এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে খবর পাঠান গ্রাহকের কাছে। শেষে নগদ ৮০ হাজার টাকা দিলে মামলাও করবে না এবং পুণরায় সংযোগ দিয়ে দিবেন বলে প্রস্তাব পাঠান। পরে রওশন সওদাগর প্রকৌশলী রাজু মন্ডলকে দেন দরবার করে দালালের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে পূণরায় সংযোগ দেন। উক্ত টাকা দেয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এরকম বিভিন্ন এলাকা থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ভয় ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে প্রকৌশলী রাজু মন্ডল। 

রাজু মন্ডল টাকা নেয়ার বিষয়টি জানা জানি হয়ে গেলে রওশন সওদাগরকে উক্ত বিষয়টি কোন সাংবাদিককে না বলার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন রাজু মন্ডলের লোকজন। গত জুলাই মাসে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় কয়েক শতাধিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও রাজু মন্ডল টাকার বিনিময়ে অধিকাংশ পুণরায় সংযোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উছেঠে।ওখাড়া এলাকা থেকে বিভিন্ন সময় মিটারে ও লাইনে সমস্যা আছে বলে গ্রাহকদের লাইন কেটে দিয়ে আবার টাকার বিনিময়ে সংযোগ দেয়ার ঘটনা প্রায় সময় করে থাকেন বলে জানান মোহাম্মদ মিন্টু নামের এক ব্যক্তি। 

রাজু মন্ডলকে আমিও এক জনের মিটারে বিল বকেয়া থাকলে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে জিরো নিয়েছি। এরকম বড় বড় শিল্প কারখানার মিটারগুলোতে বিল বকেয়া থাকলে রাজু মন্ডলকে টাকা দিয়ে অনেকে নিয়মিত জিরো করে নেন বলে জানান। এছাড়া পটিয়া পিডিবি অফিসের সামনে পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব বাবুলের বাসা বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ কোন কারণ ছাড়া বিচ্ছিন্ন করা হলে পরে প্রতিবাদ করলে সংযোগ দেন বলে জানান আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব বাবুল। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদরে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর পিডিবির দায়িত্বরত প্রতিনিধি এম নাছির উদ্দীন বলেন, রাজু মন্ডলের অনিয়ম দুনীতির বিষয়ে যথাযথ তথ্য পাওয়া গেলে মাননীয় হুইপ মহোদয়কে দিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানাব। 

অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে উপ সহকারী প্রকৌশলী রাজু মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে তার নাম দিয়ে অফিসের কেউ নিয়েছে কিনা খবর নিবেন বলে প্রতিবেদককে জানান। এ বিষয়ে পটিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, আমার অফিসের কেউ অনিয়মের সাথে জড়িত থাকলে তদন্ত করে সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

Post a Comment

0 Comments