সেলিম চৌধুরী,
স্টাফ রিপোর্টারঃ-
চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানায় ইয়াবাসহ আটক আলোচিত মাদক কারবারি ও কথিত সাংবাদিক মোছাম্মৎ লাইজু পুলিশ হেফাজতে থাকাবস্থায় বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ৫ মাস ২০ দিন পর ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ।
গত ৯ মে রাজধানীর সাভার থানায় গ্রেফতারের পর লাইজুকে পটিয়া থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিন রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি পান তদন্ত কর্মকর্তা পটিয়া থানার উপ-পরিদর্শক হিরো বিকাশ।আজ মঙ্গলবার পটিয়া থানা পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ডে এনেছে।
পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান, লাইজু থানা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর প্রায় সময় কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে যেত। তাকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযানও করা হয়েছে। সে বিভিন্ন সময় আনোয়ারা, বাঁশখালী হয়ে কক্সবাজারে যেত। তার উপর পুলিশের বিশেষ নজরদারির কারণে তাকে পুলিশ আটক করতে পেরেছে।
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দিয়ে লাইজু ইয়াবার একটি চালান নিয়ে যাচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লাইজুকে গ্রেফতার করে পটিয়া থানা পুলিশ। সে সময় তার কাছ হতে ১৯শত পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সেদিন থানা হেফাজত থেকে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে পালিয়ে যায় লাইজু। দীর্ঘ ৫ মাস ২০ দিন পর মাদক আইনের মামলায় সাভার থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন ।
পটিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, মাদক কারবারি লাইজু প্রায় সময় কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে আসছিল। পটিয়া থানা পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ আটকের পর লাইজু নিজেকে ‘আমাদের নতুন সময়’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে পরিচয় দেন। সেসময় তার কাছ হতে পত্রিকাটির ভিজিটিং কার্ড ও আইডি কার্ড পাওয়া গিয়েছিল।
মাদক কারবারি লাইজুর কাছ হতে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় সেদিন পটিয়া থানায় একটি মামলা রেকর্ড করলেও লাইজু থানা হাজত থেকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এরপর আরো একটি মামলা রের্কড হয়। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার কারণে পটিয়া থাানার এএসআই শামসুদ্দিন ভুঁইয়া, কনস্টেবল মো. রিয়াজ ও মহিলা কনস্টেবল মোছাম্মৎ মমতাজকে প্রত্যাহার করা হয়।এঘটনায় মাদক কারবারি লাইজুকে পুণরায় গ্রেফতার করতে পটিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালায়। কিন্তু গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ।

0 Comments