সেলিম চৌধুরী,
স্টাফ রিপোর্টার পটিয়াঃ-
ঢাবির সাবেক উপচার্য এমাজউদ্দীন উদ্দীন এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা দৈনিক জনতা পাঠক ফোরাম সভাপতি পটিয়া পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল খালেক, সিনিয়র সহ সভাপতি ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মন্নান, সহ সভাপতি সাবেক কমিশনার হাজী নুরুল ইসলাম, সহ সভাপতি নিজাম উদ্দিন,সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মুহাম্মদ খোরশেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ প্রমুখ। সুএে জানাযায়,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ মারা গেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটায় স্ট্রোক করলে অধ্যাপক এমাজউদ্দীনকে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে নেয়া হয়। ভোর ৬টার দিকে মারা যান তিনি।
এমাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, বাদ জুমা রাজধানীর কাঁটাবনে মরহুমের বাসভবন সংলগ্ন বাজমে কাদেরিয়া জামে মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মরহুমের স্ত্রীর পাশে সমাহিত করা হবে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদকে। ১৯৩২ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্ম নেয়া এমাজউদ্দীন প্রায় আড়াই দশক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। পাশাপাশি পালন করেছেন প্রতিটি প্রশাসনিক দায়িত্বও।
ছিলেন বিভাগীয় প্রধান, মহসিন হলের প্রভোস্ট, প্রক্টর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং সবশেষে ভাইস চ্যান্সেলর। ১৯৯২ খেকে ১৯৯৬, এই পাঁচ বছর ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন। এরপর ছ'বছরের কর্মবিরতি শেষে ২০০২ সালে যোগ দেন ইউনিভার্সিটি অব ডেভলপমেন্ট অলটারনেটিভের ভাইস চ্যান্সেলর পদে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তুলনামূলক রাজনীতি, প্রশাসন-ব্যবস্থা, বাংলাদেশের রাজনীতি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক বাহিনী সম্পর্কে গবেষণা করে চলেছেন। এসব ক্ষেত্রে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় তিনি বিশেষজ্ঞ হিসেবেও প্রখ্যাত। তার লিখিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। দেশ বিদেশের খ্যাতনামা জার্নালে তার প্রকাশিত গবেষণামূলক প্রবন্ধের সংখ্যা শতাধিক।
বিএনপির শ্রদ্ধা: ড. এমাজউদ্দীন আহমেদের মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর কাঁটাবনের এলিফ্যান্ট রোডে নিজ বাসায় তার মরদেহে দলের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি কিছুক্ষণ তার মরদেহের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে গণমাধ্যমের সামনে ফখরুল বলেন, তিনি এভাবে হঠাৎ করে চলে যাবেন এটা আমরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছি না। কারণ কয়েকদিন আগে আমরা তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অনলাইনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর আলোচনায় যোগ দিয়েছিলেন। তার এই চলে যাওয়া আমাদের জন্য একটি বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করলো। তার এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা তাকে যেন বেহেশতবাসী করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, প্রফেসর এমাজউদ্দীন বাংলাদেশের অভিভাবক ছিলেন। স্বাধীনতাকামী, গণতন্ত্রকামী মানুষের অভিভাবক ছিলেন। তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন নিবেদিত প্রাণ দেশপ্রেমিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন। চরম দুর্ভাগ্য যে, এরকম একজন অভিভাবককে শুধু বিএনপি নয়, গোটা জাতি হারাল।

0 Comments