ইউপি সদস্যকে চাঁদা না দেওয়ায় হামলা,অতঃপর মামলা ।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায় তাজুল ইসলাম নামে এক ইউপি সদস্য ও তার বাহিনীর হামলায় প্রবাসীর পরিবারের ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তির পরবর্তী রায়পুর থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং ৩২ তারিখঃ ২০/০৪/২০২০। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম তার বাহিনী দিয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলার দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নের গায়েরচর গ্রামের হামিদ আলী ব্যাপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- গায়েরচর গ্রামের সৌদি প্রবাসী সৈয়দ আহম্মদের স্ত্রী কামরুন নাহার (৬০), ছেলে মোঃ অন্তর হোসেন (২৫), নাতনি জামিলা আক্তার সুমাইয়া (৯) ও পুত্রবধূ কুলসুমা বেগম (২২)। এর মধ্যে কামরুন নাহার ও অন্তরকে গুরতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ১৮ এপ্রিল ঘটনা ঘটলেও চিকিৎসার জন্য মামলা দায়েরে দেরী হয় বলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা অন্তর সাংবাদিকদের জানান।
অভিযুক্ত তাজুল ইসলাম উপজেলার দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য এবং সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ও দলীয় প্রতীক নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ বিগত দিনে নানা অপকর্মের কারণে দলে ও এলাকায় বিতর্কিত বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। সরেজমিন পরিদর্শন ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তিন মাস পূর্বে সৈয়দ আহম্মদের ছেলে কাতার প্রবাসী জাহিদুল ইসলাম দেশে আসেন। দেশে এসে বসত ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এরপরই ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা তাজুল ইসলাম জাহিদের কাছে নতুন দালান নির্মাণ করে হিসেবে চাঁদা নয় মিষ্টি খাওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা প্রথমে দাবী করলেও পরবর্তীতে ৫ লাখ টাকা চাঁদা হিসেবেই দাবী করে। জাহিদ চাঁদা না দিলে তাজুল ইসলাম আবারও টাকা চাইলে জাহিদের পরিবারের পক্ষ থেকে রায়পুর থানায় ১২ এপ্রিল একটি সাধারণ ডায়েরী রুজু করা হয়। সাধারণ ডায়েরীর কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তাজুল ও তার বাহিনীর লোকজন জাহিদসহ পরিবারের সদস্যদের মারধরের হুমকি দেয়।
সর্বশেষ গত ১৮ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যায় জাহিদের ভাই অন্তরকে একটি দোকানে বসা অবস্থায় তাজুল শাসিয়ে যায়। রাতে তাজুলকে এলাকায় দেখতে পেয়ে ভাইয়ের সঙ্গে উত্তেজিত হওয়ার কারণ জানতে চায় জাহিদ। এতে তাজুল ক্ষিপ্ত হয়ে জাহিদকে থাপ্পড় দেয়। একপর্যায়ে তাজুল ও তার লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে জাহিদকে ধাওয়া করলে তিনি পালিয়ে যায়। পরে তাজুল ও তার বাহিনীর সদস্যরা জাহিদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এসময় জাহিদের মা কামরুন নাহার, ভাই অন্তর, স্ত্রী কুলসুমা ও ভাগনি সুমাইয়াকে পিটিয়ে আহত করে। এতে কামরুন নাহার ও অন্তরের হাত-পিঠ-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়। অন্তরের মাথা পেটে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত অন্তর জানান, তাদের মারধর করে ঘর নির্মাণের জন্য জমাকৃত ক্যাশ ৯ লাখ টাকা তাজুল লুটে নিয়েছে। একই সঙ্গে তাজুলের বাহিনীর লোকজন তার মা ও ভাবির গলা-কান থেকে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতেই হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা তাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে বসত ভিটা ছেড়ে হাসপাতালে কামরুন নাহার ও সন্তান অন্তর চিকিৎসা নিলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে অন্যরা বাড়ী ছাড়া। অন্যদিকে বসত ঘর ভাংচুর এবং নারী ও শিশুকে হামলা এবং লুট করেও ক্ষান্ত হয়নি তাজুল বাহিনী। মিথ্যা মামলা দিয়ে পরিবারের সকলকে জেলের ভাত খাওয়ানো হবে বলে এলাকায় প্রচার করছে তাজুল বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে কামরুন্নাহার কর্তৃক মামলা দায়েরের খবর পেয়ে তাজুল বাহিনীর সদস্যরা ২০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯ টার সময় হামিদ আলী বেপারী বাড়িতে গিয়ে ২য় দফায় হামলা করে এবং আহত অন্তরের ফুফাতো ভাই জসিম উদ্দিনের ঘরে গিয়ে তার সাত বছরের শিশু কন্যাকে অপহরণ করবে বলে জসিমের স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে যায়। নিরাপত্তাহীন জীবন যাপন থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করার জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) ও রায়পুর থানার ওসির কার্য্যকর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছে ভূক্তভোগী পরিবার।

Post a Comment

0 Comments