নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
লক্ষ্মীপুরে ভিজানো সুপারিতে মেশানো হচ্ছে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক ক্ষার বহনকারী "হাইড্রোজ পাউডার" । অভিযোগের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুর জেলার আনাচে কানাচে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, লক্ষ্মীপুর বেড়ির মাথার পশ্চিমে করিম খাঁর আড়ৎ, মাহাবুব খাঁর আড়ৎ,"মন্তাজ ব্যাপারীর সুপারি আড়ৎ" নামের সুপারিতে কেমিক্যাল মেশানোর কারখানায়। সাংবাদিক ঐ আড়ৎ গিয়ে দেখেন, প্রায় 'শত কাউন' সুপারিতে "হাইড্রোজ পাউডার" নামে একটি বিষাক্ত ধার্যপদার্থ কেমিক্যাল সুপারিতে মেশানোর সময় হাতে নাতে ধরা পড়ে। ভিজা সুপারিতে হাইড্রোজ পাউডার মেশানোর ব্যাপারে আড়ৎদার "মন্তাজ ব্যাপারী" এর কাছে মুঠোফোনে জানান, আমি দূরে আছি, হাইড্রোজ পাউডার ক্ষতিকারক ধার্যপদার্থ এটা আমার জানা নাই। তিনি আরও বলেন, আমার ভেজানো সুপারি লক্ষ্মীপুর,চট্রগ্রাম,রাজশাহী ও ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলাতে রপ্তানি করি । ভিজানো সুপারিতে "হাইড্রোজ পাউডার কেমিক্যাল মেশানোর বিষয়ে বলেন, আমাদের সমিতির মাধ্যমে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তবে, সেটা পরে দেখাবে বলেই, তিনি এড়িয়ে যান ।
পান খেয়ে এখন আর মানুষ প্রেমকে আহ্বান করে না, মরণব্যাধী রোগকে আহ্বান করছে। যদিও পান মানুষের পাচকের ও যকৃতের উপকারে কাজ করে কিন্তু, পানের সাথে মিশিয়ে সুপারিসহ আরো যা যা খাওয়া হচ্ছে তা মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। পানের সাথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে সুপারি। লক্ষ্মীপুরে অধিকাংশ সুপারি ব্যবসায়ীরা এসব সুপারিতে হরহামেশাই মেশাচ্ছেন ক্ষতিকর সোডিয়াম হাইড্রো সালফাইড নামের একটি কেমিক্যাল পাউডার। যা ইথিলিন নামক পদার্থ থেকে তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে এটি ‘হাইড্রোজ’ পাউডার নামে পরিচিত। সুপারির মাঝে কালো কালো দাগ উঠাতে, সুপারিকে সাদা রাখতে, হলদেটে করতে, সাধারণ ক্রেতাদের কাছে সুপারিকে দৃষ্টিনন্দন করতে এবং চড়াদামে বিক্রি করতে এই অতিমাত্রার ক্ষতিকর পাউডারটি মেশানো হচ্ছে। যা মানব দেহের জন্য অনেক ক্ষতি করে থাকে। যেমন , রক্তসঞ্চালন বন্ধ, কিডনি দূর্বল করা, যকৃতের সমস্যা, এবং চর্মরোগের মতো মারাত্মক রোগ হয় এই পাউডার ব্যবহারে। শুধু ‘হাইড্রোজ’ পাউডারই নয়, সুপারিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘এরাড’ ও বিভিন্ন রকমের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ। একেক দোকানে একেক ধরণের ‘ফরমালিন’ জাতীয় ক্ষতিকর এসব বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করছেন। বিভিন্নসূত্রে জানা যায়, মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক ক্ষার বহনকারী এই পাউডারটি কয়েক দফা সুপারিতে ছিটানো হয়ে তাকে। দেশের মূল আড়ৎ থেকে যখন স্থানীয় ‘মহাজন’ প্রকৃতির পাইকারি বিক্রেতার হাতে পড়ে তখন বস্তা থেকে খোলে বিছিয়ে ‘এরাড’ বা ‘হাইড্রোজ’ ব্যবহার করা হয়। উপরের আবরণসহও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, আবার আবরণ ছাড়াও হয়ে থাকে। তবে আপাত দৃষ্টিতে আবরণ ছাড়া সুপারির ভিতরে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক একটু বেশিই। পাইকারি বিক্রেতার চেয়ে খুচরা বিক্রেতারা কয়েকগুণ বেশি ব্যবহার করছেন এ পাউডার । আবরণ ছাড়িয়ে কিছুু কিছু দোকানিরা সুপারি বিক্রি করার জন্য পাউডার ব্যবহার করে থাকেন। প্রতিদিন সকালে দোকান খুলে সুপারির পানি পরিবর্তন করেন অধিকাংশ দোকানিরা। এ সময় পাউডার ছিটানো হয়। কখনো কখনো দিনে দুইবার ছিটানো হয় এসব পাউডার। প্রকাশ্যে এসব পাউডার ব্যবহার করা হচ্ছে লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্নস্থানে যেমন,রামগতি , রামগঞ্জ,রায়পুর, মোল্লার হাট, হায়দারগঞ্জ,কমলনগর, চন্দ্রগঞ্জ, দালাল বাজার , বেড়ীর মাথাসহ বিভিন্ন অলিগলিতে । এসব কেমিক্যাল বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে না প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সাধারণ মানুষ এ নিয়ে শংকিত। তারা আশা করছেন সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন অচিরেই এর একটি বিহীত ব্যবস্থা নিবেন বলে আমরা আশা করছি। এসব বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনারও পরামর্শ দেন কেউ কেউ। ভেজানো সুপারিতে হাইড্রোজ পাউডার মেশানো
ভেজানো সুপারিতে 'হায়ড্রোজ পাউডার ' এবং "এরাড" মেশানো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক , এটাই প্রশাসনের কাছে সচেতন মহলের দাবি।
বিষয়ে সিভিল সার্জন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, হায়ড্রোজ ক্ষতি কর, তবে কতটুকু ক্ষতি কর সেটা পরীক্ষা করার জন্য ঢাকা সাইন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে, পরীক্ষার রিপোর্ট আসলে বুঝা যাবে । সেনেটারী ইন্সপেক্টর কে অনুমতি দেওয়া হয়েছে , প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
জেলা প্রশাসক 'অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, হায়ড্রোজ একটা মারাত্মক কেমিক্যাল, সুপারিতে হায়ড্রোজ মিশানোর কোন সুযোগ নাই, হায়ড্রোজ পাউডার জিলাপি, রসগোল্লা সহ বিভিন্ন দ্রব্যাদির উপরে প্রয়োগ করা হয়। এটা আমি জানি না, আমার কাছে আজ পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি, অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


0 Comments